গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে।আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে মোট ৪৯৬ জন সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ভাই মো. সেলিম।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের জিএমপি’র উপ-কমিশনার রবিউল হাসান বলেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মামলা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই বাসন থানায় মামলাটি দায়ের করেন বলে তিনি জানান।তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাদশা মিয়া নামে এক ব্যক্তি চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে এক নারীর সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। বাদশা মিয়া নারীকে আঘাত কারার পর এক দল দুর্বৃত্ত ওই নারীর পক্ষ নিয়ে ধারালো চাপাতি হাতে বাদশা মিয়াকে আঘাত করে। এ সময় বাদশা মিয়া দৌড়ে পালিয়ে যায়। আর এ ঘটনাটি রাস্তার পাশ থেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করছিলেন সাংবাদিক তুহিন। সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া দেয়। তুহিন দৌড়ে পালাতে থাকে। সন্ত্রাসীরাও তুহিনের পিছু নিয়ে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে চান্দনা চৌরাস্তার মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি দোকানের কাছে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তুহিনের মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।
নোয়াব মনে করে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেবলমাত্র সাংবাদিক বা সংবাদপত্রের অধিকার নয়—এটি জনগণের মৌলিক অধিকার, যা সরাসরি গণতন্ত্রের প্রাণশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিবৃতিতে টিআইবির প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে মোট ৪৯৬ জন সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলায় ২৬৬ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক। এছাড়া কমপক্ষে ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছেন, ৮টি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বিভিন্ন চাপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
নোয়াব বলছে, এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়—এগুলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার জন্য এক গভীর সংকটের প্রতিফলন।








