কুষ্টিয়া দৌলতপুর সিমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)এর কাছ থেকে মো. বকুল মন্ডল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড। ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ এবং দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় বিজিবি’র এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছ থেকে মো. বকুল মন্ডল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গত ১৬ মে শনিবার রাত সাড়ে ১০টা দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ১৫৭/২-এস এর কাছে এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফেরত আসা বকুল দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ইউনিয়নের মরারপাড়া গ্রামের মো. লুৎফর মণ্ডলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।
বিজিবি সূত্র জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বকুল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৫ মে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভারতীয় আইডিতে দেখা যায়, বকুল ভারতের কলকাতায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিলমারী বিওপিকে অবহিত করেন। এরপর বিজিবি দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিএসএফ সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির মালিকের সহায়তায় বকুলকে ১৬ মে আটক করে এবং পরদিন ভোরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চরচিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. মোশারফ হোসেন। এসময় তার সঙ্গে আরও ৭ জন বিজিবি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নিতিন কুমারের নেতৃত্বে ৭ জন বিএসএফ সদস্য অংশ নেন। বৈঠকটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় বলে জানান বিজিবি।
কুষ্টিয়া ৪৭ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও তথ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা বিজিবিকে অবহিত করেন। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পতাকা বৈঠক করে তাকে দেশে ফেরানো হয়। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।