দৌলতপুর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ
খন্দকার জালাল উদ্দীন : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি অমান্য করে আগেই ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট যশোর শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৭ জুন থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। বিষয়টি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা আগে নেওয়ার পিছনে অন্য কোন মতলব বা অর্থনৈতিক লেনদেন রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন তারা।
এ কেন্দ্রের বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, বোর্ডের রুটিন দেখে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম যে ৭ তারিখ থেকে আমাদের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা হবে। সেই অনুযায়ী আমরা খাতা তৈরি ও পড়ার রিভিশন দিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে কেন্দ্র থেকে আমাদের ডেকে এনে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। এত কম সময়ে আমরা প্র্যাক্টিক্যালের কোনো ভালো প্রিপারেশনই নিতে পারিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষা বোর্ডের একটা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা থাকে। বোর্ড থেকে যে তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখানে নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব সোহেল রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্র সচিব চাইলে আগে পরীক্ষা নিতে পারেন আমরা ৩ ও ৪ জুন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা নেব। এরপর আবার ৭ তারিখ থেকে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কামাল হোসেন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত তারিখের আগে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়মের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অনিন্দ্য গুহ বলেন, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা ও নির্ধারিত রুটিন অমান্য করে আগেভাগে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিহীন অবস্থায় এভাবে পরীক্ষা নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।